সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ কোটি টাকা ছুঁইছুঁই
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে এবং তা ১১ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের ঋণগ্রহণের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭২ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ওই সময়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই ঋণ বৃদ্ধির হার বেড়েছে।
এ সময়ের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণগ্রহণ বেশি হয়েছে। মোট ঋণের মধ্যে ৬৪ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা এসেছে ব্যাংক খাত থেকে এবং ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে এসেছে ৭ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। আগের বছরে এই চিত্র ছিল উল্টো, যেখানে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচনি ব্যয়, নতুন ব্যাংকে বিনিয়োগ এবং পরিচালন ব্যয় মেটাতে এই ঋণ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ায় সরকারকে বাধ্য হয়ে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়েছে।
প্রতি বছর বাজেটে বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকায় সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়। তবে বৈদেশিক সহায়তা প্রত্যাশামতো না এলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর চাপ বাড়ে। এসব উৎসের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা খাত এবং সঞ্চয়পত্র।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে বড় ঘাটতি ধরা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ পূরণে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার আগেই সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ নিয়ে ফেলেছে, যার বড় অংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১০ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাতে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। এছাড়া মার্চ পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণগ্রহণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে, সরকারের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণও ক্রমাগত বাড়ছে, যা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: আমার দেশ