খ্রিস্টানদের বাড়িঘর ও গির্জায় আগুন দিল উগ্র ভারতীয়রা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৫ পিএম
ভারতের ছত্তিসগড় রাজ্যের কানকের জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও গির্জায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একটি খ্রিস্টান পরিবারের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর বিরোধকে কেন্দ্র করে এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার বাদেতেভদা গ্রামে একটি খ্রিস্টান পরিবারের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং গির্জা ও প্রার্থনাকক্ষ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়িতে আগুন জ্বালানো হচ্ছে এবং লাঠিসোঁটা হাতে একদল লোক বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতেই সশস্ত্র ব্যক্তিদের প্রার্থনাকক্ষে হামলা চালাতে দেখা গেছে।
দ্য ওয়্যার জানায়, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ ডিসেম্বর। বাদেতেভদা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রধান রাজমান সালাম তার অসুস্থ বাবা চামরা রাম সালামকে কানকের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার বাবার মৃত্যু হয়। রাজমান বহু বছর আগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
রাজমান সালাম জানান, প্রথমে তিনি স্থানীয় হিন্দু রীতিতে বাবার শেষকৃত্য করতে চাইলেও খ্রিস্টান হওয়ায় তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর পরিবারটি নিজস্ব জমিতে খ্রিস্টান রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় স্থানীয়দের আপত্তি থেকে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, পরে আরএসএস ও বজরং দলের মতো হিন্দুত্ববাদী সংগঠন জড়িত হলে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন।
রাজমানের অভিযোগ, ওই সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে উল্টো তাদের পিছু হটতে চাপ দেয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কয়েকজন গ্রামবাসী মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের দাবি জানায়। পরে ১৮ ডিসেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
এরপরই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। রাজমান সালামের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার পর খ্রিস্টানদের বাড়িঘর ও গির্জায় পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।