গাজীপুরে ৫ খুনে অভিযুক্ত সেই ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মা নদীতে
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পদ্মা নদী থেকে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে তার ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই পদ্মা সেতুর ওপর থেকে একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তা যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় সেগুলো ফোরকানের।
এরপর বৃহস্পতিবার পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
পেশায় প্রাইভেটকারচালক ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।
ঘরের মেঝেতে তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ ছিল বিছানার ওপর।
ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের বোতল, রান্না করা পায়েস ও কোমল পানীয়ের বোতল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কিছু কাগজপত্রও পাওয়া যায়, যেখান থেকে জানা যায় ফোরকান এর আগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল।