হত্যার পর স্কুলছাত্রী মেয়ের মরদেহ রাস্তায় ফেলে যান বাবা, ১০ দিন পর গ্রেপ্তার

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

খুলনা নগরের নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনার (১৬) মরদেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ১০ দিন পর গ্রেপ্তার হয়েছেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি তার বাবা আলিম হোসেন ওরফে আকাশক।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তিনি খুলনা নগরের বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আলিম হোসেনকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছিল। তবে তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতেও তাকে আটকের একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে শনিবার ডুমুরিয়া বাজার এলাকায় ফিরে এলে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে তাকে সদর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

এর আগে গত ১১ জুলাই খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, নিহত আরফানার মা আরিফা ইয়াসমিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাবাকে গ্রেপ্তারের অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা ছিল মা–বাবার একমাত্র সন্তান। সম্প্রতি সে নিজের পছন্দে বিয়ে করেছিল। বয়স কম হওয়ায় তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনা হলেও সে আবার সেখানে ফিরে যেতে চাইছিল। এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো।

গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় একই বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে আরফানাকে প্রথমে তার মা মারধর করেন। পরে বাবা কাঠের একটি ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মা ও বাবা দুজনই মাদকাসক্ত।

হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে আরফানার মরদেহ কবুতরের খাবার বহনের একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যান আলিম হোসেন।

পরদিন মরদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় সদর থানার উপপরিদর্শক লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে আরফানার মা মরদেহ শনাক্ত করেন। তদন্তে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970