যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। এর ফলে বাংলাদেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গত ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে। ওই তালিকায় নতুন করে বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ এই ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারেন। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তা।
এই বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পাইলট কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা বন্ডের টাকা স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণ না করলে কিংবা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে আবেদনকারী এই অর্থ ফেরত পাবেন। তবে অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট বিমানবন্দর বাধ্যতামূলক-
ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা যাত্রীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশিরা কেবল বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। নির্ধারিত এই পথের বাইরে যাতায়াত করলে বন্ড ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ আরও কয়েকটি দেশ। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে এই নিয়ম কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও প্রক্রিয়াগতভাবে জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।