ইরানে সরকার পতনের আন্দোলন তীব্র, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে আগুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে সরকারবিরোধী আন্দোলন নতুন করে সহিংস রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা এবার সরাসরি সরকার পতনের দাবি তুলেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ দাবি করে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-এর একটি ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও গণমাধ্যমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ থাকায় ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের কুহচেনার শহরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির একটি ভাস্কর্য ভেঙে উল্লাস করছেন বিক্ষোভকারীরা।
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের ৩১টি প্রদেশেই মোট ৩৪৮টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আন্দোলন শুরুর পর থেকে অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, টানা ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দমনে অবৈধ বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত—সব মিলিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে ইরানের বর্তমান সরকার। যদিও কর্তৃপক্ষ সহিংসতার জন্য ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করে কঠোর বিচারিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অন্যদিকে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র ও নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি এই আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে একে ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেছেন।