ভারতকে ‘ভালো প্রতিবেশী ও বন্ধু’ বলল চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ভারতকে ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুকে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পাঠানো ওই বার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা বৈশ্বিক শুল্কযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দুই পরাশক্তির সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই শি জিনপিংয়ের এ মন্তব্য এসেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, গত এক বছরে চীন ও ভারতের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়েছে। এই সম্পর্ক বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করা হয়।
শি জিনপিংয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর দীর্ঘ চার বছরের উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ কাটিয়ে বেইজিং ও নয়াদিল্লি নতুন করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন ও চীনের চারজন সেনা নিহত হয়।
সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত চীনা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক নিষিদ্ধ করে এবং দেশটিতে চীনা বিনিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করে। তবে এসব বিধিনিষেধ সত্ত্বেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অব্যাহত থাকে এবং বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
গত আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে চীন সফর করেন। ওই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার করেন তিনি, যা বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর নতুন করে শুল্কযুদ্ধ শুরু করেন। এতে ভারত ও চীনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ মার্কিন শুল্কের মধ্যে অন্যতম। অন্যদিকে চীনা পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দুই নেতার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।