সুপ্রিম কোর্টকে পাত্তা দিচ্ছেন না ট্রাম্প, নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একতরফা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রায় কার্যত অগ্রাহ্য করে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। আদালতকে ‘কলঙ্ক’ ও ‘বিদেশি স্বার্থে প্রভাবিত’ বলেও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ব্যবধানে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালত তাদের রায়ে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)’ ব্যবহার করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করা যায় না।
রায়ের পর ট্রাম্প উদারপন্থি বিচারপতিদের ‘দেশের কলঙ্ক’ আখ্যা দেন। পাশাপাশি তার অবস্থানের বিপক্ষে থাকা রক্ষণশীল বিচারপতিদেরও কটাক্ষ করেন। ট্রাম্প বলেন, “শুল্ক আরোপের অধিকার আমার আছে এবং সবসময়ই ছিল।”
সুপ্রিম কোর্টের বাধা এড়াতে এবার ১৯৬২ সালের ‘ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট’ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন দিনের মধ্যেই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে এবং এটি ১৫০ দিনের জন্য প্রযোজ্য থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশের ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’ নিয়ে তদন্ত চালানো হবে। তদন্ত শেষে আরও স্থায়ী বা উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায়। তবে Oxford Economics জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে কার্যকর শুল্কহার ১২.৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
এদিকে Center for a New American Security–এর সিনিয়র ফেলো র্যাচেল জিয়েম্বা বলেছেন, “এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা। এখন ইচ্ছেমতো দ্রুত শুল্ক কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তে মার্কিন অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। গত এক বছরে ট্রাম্প রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতির চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবেও শুল্ক ব্যবহার করেছেন। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আইনি সীমাবদ্ধতার মুখে ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কৌশলগত চাপ প্রয়োগের পথেও হাঁটতে পারে।