বন্ধ হয়ে গেল ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতীক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ভারতবর্ষে প্রায় দুই শতকের ব্রিটিশ শাসনের সূচনা করা কুখ্যাত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অবশেষে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানের আধুনিক সংস্করণটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির সব সম্পত্তি বিক্রির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন লোকসান ও ঋণের বোঝা বহন করতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
ইতিহাস বলছে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটিশ রাজের সরাসরি শাসনের অধীনে চলে যায় এবং তাদের বাণিজ্যিক আধিপত্যের অবসান ঘটে। তবে ২০১০ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা সঞ্জীব মেহতা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুনভাবে চালু করেন। তিনি লন্ডনের অভিজাত এলাকা মেফেয়ারে প্রায় দুই হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি বিলাসবহুল বিক্রয়কেন্দ্র চালু করে উচ্চমূল্যের খাবার, চা ও পানীয়ের খুচরা ব্যবসা শুরু করেন। ঐতিহাসিক নাম ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে একটি অভিজাত ব্র্যান্ড গড়ে তোলাই ছিল তার লক্ষ্য।
কিন্তু আর্থিক হিসাবপত্রে দেখা গেছে, মূল প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গ্রুপের কাছে কোম্পানিটির মোট বকেয়া ঋণ প্রায় ছয় লাখ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকার সমান। পাশাপাশি কর বাবদ বকেয়া রয়েছে প্রায় এক লাখ তিরানব্বই হাজার সাতশ ঊননব্বই পাউন্ড। কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য পাওনাও দাঁড়িয়েছে এক লাখ তেষট্টি হাজার একশ পাঁচ পাউন্ডে।
চরম লোকসান ও ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া নাম বহনকারী অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানও তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। লন্ডনের মেফেয়ারে অবস্থিত প্রধান বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে রাজকীয় ঐতিহ্যের মোড়কে ব্যবসা করার শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেওয়ার সময় সঞ্জীব মেহতা গর্ব করে বলেছিলেন, একসময় যারা ভারত শাসন করেছিল, আজ একজন ভারতীয়ই সেই কোম্পানির মালিক। তবে আধুনিক বাজার ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারা এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে ঐতিহাসিক এই ব্র্যান্ডটি শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এখন আদালতের মাধ্যমে সম্পদ নিলামে তুলে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধের প্রস্তুতি চলছে।