সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে যেভাবে হত্যা করা হলো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও ফার্স নিউজ এজেন্সি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুটি মার্কিন সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে জানায়, শনিবার ভোরে ইরানে যৌথ হামলার সময় খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শীর্ষ সহযোগী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি শামখানি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর রয়েছেন।
ইরানি সূত্রের বরাতে জানা যায়, হামলার ঠিক আগে আলি শামখানি ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি-র সঙ্গে একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন খামেনি।
শনিবার খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইটচিত্র প্রকাশ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। সেখানে দেখা যায়, ভবনটির বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং চারপাশ কালো হয়ে গেছে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়। তবে হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের জনগণ এবং বিশ্বজুড়ে নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকানদের জন্য ন্যায়বিচার। তিনি আরও দাবি করেন, উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলাটি সফল করা হয়েছে।
এদিকে খামেনির মৃত্যুতে ইরানে সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।