কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও তীব্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। আঞ্চলিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশ জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে এবং সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়েতে অবস্থিত আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি–এর দিক থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে, যা হামলার ইঙ্গিত দেয়। একই সময় কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস–এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কাতারজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ দেশটির বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব দাবি করেছে, তারা কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এখনো কেবল শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল–এর সেক্রেটারি আলী লারিজানি বলেছেন, যেকোনো মার্কিন আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরানি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। কোনো ধরনের হুমকি বা চাপ ইরানকে থামাতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বিশ্বনেতাদের প্রতি শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে লেবাননেও উত্তেজনা বাড়ছে। দেশটিতে অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ–কে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। বাসিন্দাদের লেবানন ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলার আশঙ্কায় রাজধানী বৈরুত ছেড়ে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
তবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, কোনো পরিস্থিতিতেই তারা ইসরায়েলের কাছে মাথা নত করবে না এবং প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।