জ্বালানির দাম কমাতে কৌশলগত বড় পদক্ষেপ নিল মার্কিন প্রশাসন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। দেশটির জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ছাড় করা তেলের প্রথম চালান চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই বাজারে পৌঁছাবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোট ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে ৮৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জন্য ইতোমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
বিভাগটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই তেল সরবরাহের ফলে মার্কিন করদাতাদের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৩২টি সদস্য দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশ। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স রয়েছে। তারা তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ২০২২ সালে জ্বালানি রিজার্ভ ব্যবহারের কারণে তৎকালীন প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বুধবার কেনটাকিতে এক সমাবেশে তিনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তার মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের ওপর আসা জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কাজ শেষ না করে মাঝপথে ফিরতে চাই না। আমাদের কাজ শেষ করতেই হবে।”
এর আগে বুধবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক সচিব ডগ বারগাম জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেবে কি না সে বিষয়ে তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
টেক্সাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ভূগর্ভে সংরক্ষিত এই কৌশলগত তেল রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয়টি শুরুতে নাকচ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানি হামলার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই ঘটনার পর অপরিশোধিত তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের তেলক্ষেত্র থেকে বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের প্রধান পথ ব্যবহার বন্ধ করে দেয় অনেক জাহাজ।