ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে আবারও ব্যর্থ মার্কিন সিনেট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে আনা একটি প্রস্তাব আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সিনেট। এটি ছিল এ ধরনের চতুর্থ প্রচেষ্টা। আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন অব্যাহত রাখবেন।
বুধবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবটি ৪৭-৫২ ভোটে পরাজিত হয়। রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, আর ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান বিপক্ষে ভোট দেন। সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। যদিও পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় স্থায়ী সমাধান হয়নি, তবে উভয় পক্ষ নতুন করে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেন। ৭ এপ্রিলের এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ রাতে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” তার এই বক্তব্যের পর কংগ্রেসে যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার দাবি আরও জোরালো হয়।
প্রস্তাবের সমর্থকদের দাবি, ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন, যা সংবিধানসম্মত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের, যদিও জরুরি আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট পদক্ষেপ নিতে পারেন।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এই সংঘাতকে “অব্যবস্থাপনা ও ভুল পরিকল্পনার ফল” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে এবং এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিচ বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দায়িত্ব পালন করছেন, তাই এ ধরনের প্রস্তাব অপ্রয়োজনীয়।
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে উভয় কক্ষেই পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করা কঠিন হবে।
আইন অনুযায়ী, কোনো যুদ্ধ ৬০ দিন অতিক্রম করলে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হয়, অন্যথায় সেনা প্রত্যাহার করতে হয়। এদিকে মার্কিন সেনা কমান্ড জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের বন্দরগামী কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত জাহাজগুলোকে তল্লাশি ও জব্দ করা হতে পারে। এর জবাবে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, এ ধরনের নৌ অবরোধ চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে।