ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ভারতের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, কেউ ভারতের কথা বিশ্বাস করে না এবং কেউ তাদের বক্তব্য গুরুত্বও দেয় না।
বৃহস্পতিবার দ্য ডন পত্রিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
‘মারকা-ই-হক’ নামে পরিচিত সামরিক অভিযানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বক্তব্য দেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী।
গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার যে অধ্যায় শেষ হয়, পাকিস্তান সেটিকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আহমেদ শরিফ চৌধুরী দেশবাসীকে এই অভিযানের এক বছর পূর্তির শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহুস্তরীয় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শত্রুকে পরাজিত করেছে।
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপন করার ভারতের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষায়, কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে জড়িয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন করেন, এসব অভিযোগের প্রমাণ কোথায়। এরপর আবারও বলেন, কেউ ভারতের কথা বিশ্বাস করে না এবং তাদের বক্তব্য গুরুত্ব পায় না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এখন এই অঞ্চলের নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ভারতে সামরিক বাহিনী রাজনীতিকরণ হয়েছে এবং রাজনীতিতে সামরিক প্রভাব বেড়েছে, যা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের ওপর দমন-পীড়ন। কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা আড়াল করতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারতীয় গণমাধ্যম তথ্যযুদ্ধে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের প্রকৃত চিত্র এখন প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নানা পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ভারতের ভূমিকা রয়েছে।