ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে নিতে নতুন হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর প্রথমবারের মতো ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই সম্ভাব্য এই হামলা চালানো হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে ধ্বংসস্তূপ বা মাটির নিচে থাকা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক উপাদান উদ্ধার করা। এজন্য বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এমন অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। অভিযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে এবং এতে ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আরও জানানো হয়, বিকল্প পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও আলোচনায় আছে। পাশাপাশি ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত বিমান হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব জানিয়েছিল, ওয়াশিংটনের সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি কমিয়ে আনা এবং অভ্যন্তরীণভাবে সরকারবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করা। তবে দীর্ঘ সংঘাতের পরও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীও বন্ধ করে দেয় ইরান।
প্রায় পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে ভঙ্গুর শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলেও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।