জালিয়াতির মামলা নিষ্পত্তিতে ১৮ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হলেন আদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের শীর্ষ ধনকুবের গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানি যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দায়ের করা জালিয়াতির মামলা নিষ্পত্তিতে ১৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন।

২০২৪ সালে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি অভিযোগ তোলে, ভারতের বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের কাজ পেতে আদানি গ্রুপ ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছে। একই সঙ্গে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সময় মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে নিজেদের দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ আনা হয়।

প্রস্তাবিত এই সমঝোতা কার্যকর করতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে খবর প্রকাশের পর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারে। শুক্রবার আদানি গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তে দেখা গেছে। বিদ্যুৎ, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, গৌতম আদানি ও সাগর আদানি অভিযোগগুলো স্বীকারও করেননি, আবার অস্বীকারও করেননি। তবে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারী প্রতারণা, সিকিউরিটিজ জালিয়াতি বা বাজার কারসাজির মতো মার্কিন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

এসইসির অভিযোগে বলা হয়, আদানি গ্রিন এনার্জি দুর্নীতিবিরোধী আইন মেনে চলছে—এমন দাবি করে ৭৫ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার আসে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। যদিও শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে আসছে আদানি গ্রুপ।

ফোর্বসের তথ্যমতে, ৬৩ বছর বয়সী গৌতম আদানির বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার। তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের একজন।

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গৌতম আদানির বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, শক্তিশালী আইনি দল নিয়োগের পর মামলাটিতে অবস্থান পরিবর্তন করে বিচার বিভাগ। এই আইনি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়র, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী আইনজীবীদের একজন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনি উপদেষ্টা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচিত ‘হাশ মানি’ মামলার আপিল প্রক্রিয়াতেও ছিলেন জিউফ্রা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত মাসে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দাবি করেন, অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলে আদানি যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ এবং ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করবেন।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পরই এমন বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন গৌতম আদানি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিদেশি ঘুষসংক্রান্ত মামলায় কঠোরতা কমানোর যে নীতিগত পরিবর্তন আসছে, এই মামলা প্রত্যাহার তারই অংশ হতে পারে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও আদানি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970