ট্রাম্পের পর এবার চীন সফরে গেলেন পুতিন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১১:১০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় বেইজিং সফরে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে পুতিনকে বহনকারী বিমানটি বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে রুশ প্রেসিডেন্ট ও তার সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে যেভাবে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছিল, পুতিনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আয়োজন দেখা গেছে। সামরিক ব্যান্ডের সঙ্গীত, আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা এবং স্বাগত আয়োজনে ছিল বিশেষ গুরুত্ব।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি কার্যালয় ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে আলোচনা করা।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কো ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার দূরত্ব বাড়লেও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক সবচেয়ে “সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ” সম্পর্কের উদাহরণ।
বেইজিং সফরের আগে চীনের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া ভিডিওবার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক এখন “অভাবনীয় উচ্চতায়” পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এবারের সফরে জ্বালানি তেল এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, চীন বর্তমানে রুশ অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। অন্যদিকে সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এশিয়া সোসাইটির কর্মকর্তা লায়েল মরিসের মতে, পুতিন চীনের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য ধরে রাখতে চান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বেইজিংয়ের ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কেও জানতে আগ্রহী মস্কো।