যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন দিতে চাওয়া ইরানিদের গণবিয়ে, সামরিক যানে হাজির বর-কনে!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক গণবিয়ে। তবে এটি শুধু বিয়ের অনুষ্ঠান নয়, বরং জাতীয়তাবাদী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ এই কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শত শত নবদম্পতি জানিয়েছেন, দেশ রক্ষায় প্রয়োজন হলে তারা জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত।
সোমবার (১৮ মে) রাতে ইরান সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হুমকির মুখে তরুণ সমাজের মনোবল শক্ত রাখা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ইমাম হোসেন স্কয়ারে শতাধিক যুগলের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। সরকার এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘জানফাদা’, যার অর্থ আত্মোৎসর্গ। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হলে মানব ঢাল হিসেবেও দাঁড়াবেন তারা।
ইরান সরকারের দাবি, ইতোমধ্যে লাখ লাখ মানুষ এই জাতীয়তাবাদী কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। এতে অংশ নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে ইরানি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বড় বড় সরকারপন্থী কর্মসূচির আয়োজন করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গণবিয়ের আয়োজনটি ছিল বেশ ব্যতিক্রমধর্মী। বর-কনেরা সাধারণ গাড়ির বদলে সামরিক বাহিনীর মেশিনগানবাহী জিপে করে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। তবে যুদ্ধের আবহের মধ্যেও বিয়ের মঞ্চ সাজানো হয় বেলুন ও আলোকসজ্জায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নববধূ গণমাধ্যমকে বলেন, “দেশ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে থাকলেও তরুণ-তরুণীদের বিয়ের অধিকার রয়েছে।”
দেশপ্রেম, যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং নতুন জীবনের সূচনা—সব মিলিয়ে তেহরানের এই আয়োজন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।