বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ককে চরিত্রের দোষ হিসেবে দেখা যাবে না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের আগে প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ককে চারিত্রিক ত্রুটি বা নৈতিক অবক্ষয়ের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তেলেঙ্গানার এক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত খারিজ করতে গিয়ে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারপতি মনমোহন ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত উল্লেখ করে, সব সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে নয়। তাই কোনও সম্পর্ক বিয়েতে রূপ না নিলেই একজনকে প্রতারক বা সরকারি চাকরির জন্য অনুপযুক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় না।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্টাইপেন্ডিয়ারি ক্যাডেট ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হলেও তেলেঙ্গানা স্টেট লেভেল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড তার নিয়োগ বাতিল করে। এর পেছনে ২০১৪ সালে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়।

অভিযোগ ছিল, তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে ২০১৫ সালে লোক আদালতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি হয়। চাকরির আবেদনপত্রেও তিনি মামলার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।

রায়ে আদালত জানায়, দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত মানুষের সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ককে কারও চরিত্র সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির ভিত্তি হিসেবে ধরা উচিত নয়। আইনেও এমন কোনও বিধিনিষেধ নেই, যা প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত নারী-পুরুষকে নিজেদের পছন্দমতো সম্পর্ক গড়ে তোলা থেকে বিরত রাখে।

আদালত আরও বলে, কোনও সম্পর্ক বিয়েতে পরিণত না হলেই এক পক্ষ অন্য পক্ষকে প্রতারণা করেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রতিটি সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে হবে, এমন ধারণারও কোনও আইনি ভিত্তি নেই।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত মামলা লোক আদালতে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার করেছেন—এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়। একইভাবে, কোনও ফৌজদারি মামলা সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক অবস্থান নিতে পারে না।

তবে আদালত বলেছে, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে অভিযোগকারীকে জোরপূর্বক বা হুমকি দিয়ে সমঝোতায় বাধ্য করা হয়েছে, তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।

এনডিটিভির তথ্যমতে, প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের পেছনে তার নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পরে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। পুনর্বিবেচনার পরও নিয়োগ বাতিল হলে আদালত আবারও তাকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ডিভিশন বেঞ্চ সেই আদেশ বাতিল করলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন।

সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে আরও জানায়, বর্তমান সময়ে বিয়ের আগের সম্পর্ক সমাজে ক্রমশ বেশি দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈধ সম্মতির একটি স্বাভাবিক ধারণা তৈরি হয়। আদালত উল্লেখ করে, মামলার দুই পক্ষই প্রতিবেশী ছিলেন এবং বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনতেন। সমঝোতার ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা জবরদস্তির কোনও প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

রায়ে আদালত আরও বলে, অভিযোগকারী নিজেকে প্রতারিত মনে করেছেন কি না, তা কেবল তিনিই বলতে পারেন। অন্য কারও পক্ষে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

অভিযোগকারী মামলাটি এগিয়ে নিতে আগ্রহী ছিলেন না এবং সমঝোতায় সম্মতি দিয়েছিলেন উল্লেখ করে আদালত মন্তব্য করে, এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পুলিশে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় চরিত্র নেই বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও যৌক্তিক ভিত্তি নিয়োগ বোর্ডের হাতে ছিল না।

সূত্র: এনডিটিভি

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970