ইরানে ১৭০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে দুই দিনে ১৭০টির বেশি সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার রাতে প্রথম দফায় প্রায় ৮০টি এবং বুধবার রাতে দ্বিতীয় দফায় ৯০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা এবং সামরিক অবকাঠামো।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর জানান, ৮ ও ৯ জুলাই পাঁচটি প্রদেশে চালানো মার্কিন হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের ইরানশাহর জেলার গভর্নর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের একটি ভবনে মার্কিন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

ইরানের দাবি, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দুটি রেলসেতু এবং বন্দরনগরী চাবাহারের একটি সামুদ্রিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারেও হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্য, এসব হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আইআরজিসির বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তাদের নৌ ও অ্যারোস্পেস ইউনিট যৌথভাবে কুয়েতের আরিফান ও আল-সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জাফাইর ও শেখ ইসা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের আরও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো হামলার মূল্য দিতে হবে। তার ভাষায়, ‘আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পেতেই হবে। জোরজুলুম ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সময় শেষ।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখা এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল। তবে ৬০ দিনের জন্য কার্যকর ওই সমঝোতার মধ্যেই নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘শেষ’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলফিরাজ স্কিয়ার্স কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা পুরোপুরি ভেঙে না পড়লেও এটি এখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তার মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতেই দুই পক্ষ সামরিক চাপ সৃষ্টি করছে।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970