গ্রেফতার ও বিচার থেকে আজীবন দায়মুক্তি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২৪ পিএম
পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সোমবার সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নতুন ক্ষমতা ও গ্রেফতার ও বিচার থেকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। সমালোচকেরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ দেশটিতে স্বৈরতন্ত্রের পথ আরও প্রশস্ত করবে।
বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাকিস্তানের সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে রূপ নিয়েছে। সংশোধনীর মাধ্যমে দেশটির শীর্ষ আদালতের কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। সমর্থকরা বলছেন, এটি সশস্ত্র বাহিনীকে আরও স্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো দেবে এবং আদালতের মামলার জট কমাতে সাহায্য করবে।
পারমাণবিক শক্তিধারী পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে—কখনো অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, কখনো পর্দার আড়ালে। ইতিহাসে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ও জিয়া-উল-হকের শাসন দেশটিকে বারবার অস্থির করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসামরিক ও সামরিক ক্ষমতার দীর্ঘদিনের ‘হাইব্রিড শাসন’ এখন সেনাবাহিনীর পক্ষে ঝুঁকে পড়েছে।
সংশোধনীর আওতায়, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে দায়িত্বে থাকা মুনির নৌ ও বিমান বাহিনীরও তত্ত্বাবধায়ক হবেন। তার ফিল্ড মার্শাল পদবি ও ইউনিফর্ম আজীবনের জন্য বহাল থাকবে। অবসরের পরও প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পরামর্শে তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবেন।
সমর্থকরা বলছেন, এটি সামরিক কমান্ড কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, এটি বৃহত্তর সংস্কার এজেন্ডার অংশ।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, এটি সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। মানবাধিকার কমিশনের সহ-সভাপতি মুনিজা জাহাঙ্গীর মন্তব্য করেছেন, “সামরিক ও বেসামরিক ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য শেষ হয়ে গেছে। ক্ষমতা কমানোর সময় সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হলো।”
সংশোধনীর বিতর্কিত অংশ হলো নতুন ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত (এফসিসি) গঠন। সাংবিধানিক মামলা এখানেই বিচার হবে এবং প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারকের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি করবেন। সমালোচকরা বলছেন, এটি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ করে দেবে।
সংশোধনীর সঙ্গে বিচারকদের বদলি ও নিয়ন্ত্রণও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। বদলিতে রাজি না হলে বিচারক অবসর নিতে বাধ্য হবেন। সমর্থকরা বলছেন, এতে জনবল ঘাটতি কমবে। সমালোচকরা বলছেন, এটি বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সংশোধনী পাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ ও মনসুর আলী শাহ পদত্যাগ করেছেন। মিনাল্লাহ বলেন, “যে সংবিধান রক্ষা করার শপথ নিয়েছিলাম, তা আর নেই। ২৭তম সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে।”