কুয়েতের বিমানবন্দরে ইরানি হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলায় অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার (৩ জুন) কুয়েতে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, একই সময়ে বাহরাইনেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর জবাবে হরমুজ প্রণালীর কাছে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হলেও পরে ‘টার্মিনাল-৪’ থেকে কুয়েত এয়ারওয়েজের ফ্লাইট চালু করা হয়।

গত এপ্রিল মাসে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর সেটি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বাহরাইনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কুয়েতমুখী কয়েকটি ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি আলোচনায় যুক্ত আছেন এবং তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। তবে ইরান বরাবরই পরমাণু বোমা তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এ ঘটনাকে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন পরিস্থিতি, তেল রপ্তানি থেকে আয় এবং হরমুজ প্রণালীতে কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখার বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই ইরান সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার পথে এগোতে চায়।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া চলমান সংঘাতে ইরান ও লেবাননে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970