জুলাই অভ্যুত্থানে ৪১ জেলার ৪৩৮ স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪৩ পিএম
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার দলীয় সশস্ত্র নেতাকর্মীরা দেশের ৪১টি জেলার ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর (পিপিএম)। এছাড়া ৫০টিরও বেশি জেলায় আন্দোলনকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে সাক্ষ্য দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার যত গুম, খুন, জখম, অপহরণ ও নির্যাতন চালিয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকা। গত ১৫ বছরে সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য বিরোধী দল, মত ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা, জঙ্গি নাটক, অপহরণ, গুম ও পাতানো নির্বাচনের মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের আন্দোলনে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।”
এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও, বিবিসি ও আল জাজিরায় প্রচারিত জুলাই আন্দোলনের নৃশংসতার চিত্রও জব্দ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে প্রদর্শন করা হয়।
এর আগে এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ আবু সাঈদের পিতা, স্বজন হারানো পরিবার এবং আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম শুনানি করেন। পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হয়ে রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যার আবেদন ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করে।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা চলমান রয়েছে—একটি ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে, অপরটি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে।
গত বছরের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের অংশবিশেষের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।