রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে ও কীভাবে, যা জানা গেল
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু রাষ্ট্রপতি পদ। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—এ প্রশ্নেই মনোযোগ রাজনীতিক ও বিশ্লেষকদের।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করা বা অভিশংসিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্ভব নয়।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে তবেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগে আগ্রহী; যদিও নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে—নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে কি না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যেভাবে হয়
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং কেউ দুইবারের বেশি এ পদে থাকতে পারেন না। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তিনটি কারণ রয়েছে—মেয়াদ শেষ হওয়া, পদত্যাগ এবং অভিশংসন।
পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে। প্রার্থীকে অবশ্যই ৩৫ বছরের বেশি বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। একক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
১৯৯১ সালের আগে রাষ্ট্রপতি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতেন। তবে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের পর বর্তমান পদ্ধতি চালু হয়।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে তার আনুষ্ঠানিক ভূমিকা রয়েছে। রাজনৈতিক সংকট বা সংসদ ভেঙে গেলে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিকে ‘জুলাই সনদে’ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়োগে রাষ্ট্রপতিকে অধিক স্বাধীনতা দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। তবে এ পরিবর্তন কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।
এখন কী সম্ভাবনা?
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। এখন পর্যন্ত পদত্যাগ বা অভিশংসন সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় মো. সাহাবুদ্দিনই দায়িত্বে বহাল থাকছেন।