জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামিকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত!
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
পরিবেশ সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য আবদুল মুকিত মজুমদার ওরফে মুকিত মজুমদার বাবুকে মনোনীত করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে থাকার বিষয়টি সামনে আসায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি হত্যা মামলার আসামি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হলো।
গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এ বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। সাধারণত স্বাধীনতা দিবসের আগে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক তুলে দেন।

এদিকে জানা গেছে, গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৬২/১৬৯-এ দণ্ডবিধির ১০৯, ৩০২, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে আবদুল মুকিত মজুমদারকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম রয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নামও রয়েছে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি এ ধরনের মামলার আসামি হন, তাহলে তাকে কীভাবে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হলো—এটি বড় প্রশ্ন। মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলেও বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুকিত মজুমদার বাবু ইমপ্রেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। তিনি ২০০৯ সালে ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে চ্যানেল আইয়ে ‘প্রকৃতি ও জীবন’ নামে ধারাবাহিক তথ্যচিত্র অনুষ্ঠান শুরু করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১২, বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন-২০১৩ এবং জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৫সহ একাধিক সম্মাননা গ্রহণ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকেও তিনি বিভিন্ন সময় পুরস্কার নেন।
মামলার বিষয়ে জানতে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি যাচাই না করে এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে মামলার বাদী মো. সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।