কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া প্রসিকিউটর বিএনপিপন্থি সংগঠনের নেতা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
আসামিপক্ষের স্বজনদের কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সাইমুম রেজা তালুকদার। ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে এ অর্থ দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে জানানো হলে সোমবার (৯ মার্চ) প্রসিকিউটর পদ থেকে পদত্যাগ করেন সাইমুম রেজা তালুকদার।
এ ঘটনার পর তার পেশাগত ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে জানা যায়, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই তিনি বিএনপিপন্থি একটি পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’ নামের ওই সংগঠনের আইনবিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন সাইমুম রেজা।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের প্যাডে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন দলের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে কর্মরত জাতীয়তাবাদী উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের কয়েকটি বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটির সুপারিশে ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’-এর কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কমিটি ঘোষণার পর সংগঠনের অন্য নেতাদের সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতেও যান সাইমুম রেজা তালুকদার। এ সংক্রান্ত একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
সোমবার রাতে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরে সাইমুম রেজা তালুকদারের ঘুষ দাবির একটি অডিও প্রকাশ করা হয়। এরপর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নেত্র নিউজ ও প্রথম আলোর যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উঠে আসে।
তবে প্রসিকিউটর হওয়ার পরও দলীয় সংগঠনের পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, তিনি জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে সংগঠনটির কমিটি স্থগিত রয়েছে। যদিও কমিটি কবে এবং কীভাবে বিলুপ্ত হয়েছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।