মাইলস্টোনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটিই ছিল মূল কারণ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৯ পিএম
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে— দুর্ঘটনাটির মূল কারণ ছিল পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি। প্রশিক্ষণের সময় বিমানটির নিয়ন্ত্রণ পাইলটের আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছিল বলেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটির প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস. এম. কামরুল হাসান। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তদন্ত প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
গত ২১ জুলাই সকালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় পাইলটসহ অন্তত ৩৫ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। ঘটনাটির তদন্তে ২৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন মাসের অনুসন্ধান শেষে কমিটি তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রেস সচিব জানান, তদন্ত কমিটি ১৫০ জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে— যাদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সবাই ছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় তারা ১৬৮টি তথ্য উদঘাটন এবং ৩৩টি সুপারিশ প্রদান করেছেন।
প্রধান সুপারিশ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে জননিরাপত্তার স্বার্থে বিমান বাহিনীর সব প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ঢাকার বাইরে পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইলস্টোন স্কুল রাজউকের অনুমোদিত বিল্ডিং কোড অনুসারে নির্মিত হয়নি। ভবনটিতে ন্যূনতম তিনটি সিঁড়ি থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল, যা মাঝ বরাবর অবস্থিত। কমিটির মতে, যদি তিনটি সিঁড়ি থাকত, হতাহতের সংখ্যা আরও কম হতে পারত।
অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অন্যান্য সুপারিশ
- বরিশাল ও বগুড়ায় বিমানবাহিনীর রানওয়ে সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
- বিমানবন্দরের আশপাশে ‘ফোম টেন্ডার’ (বিশেষ অগ্নিনির্বাপক যান) সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- টেক-অফ ও ল্যান্ডিংয়ের পথে হাসপাতাল, স্কুল, গুদাম বা শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ছোট বিমানবন্দরগুলো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি। প্রশিক্ষণের সময় বিমানটি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়— সেটিই ছিল মূল উপসংহার।”
তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।