চুক্তি বাতিলের সুযোগ নেই, দাম কমানোর চেষ্টা চলছে: সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগের সরকারের করা চুক্তিগুলোতে ‘সভরেইন গ্যারান্টি’ থাকায় সেগুলো ইচ্ছামতো বাতিল করার সুযোগ নেই। তবে সরকার বিদ্যুতের ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, আগের সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যেসব চুক্তি করেছিল, সেগুলোতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘সভরেইন গ্যারান্টি’ দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব চুক্তি বাতিল করা জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয়। তবে সরকার বিশেষ করে বিলম্বিত অর্থ পরিশোধের অতিরিক্ত ফি (লেট পেমেন্ট ফি) কমানো বা বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করছে। এ বিষয়ে ফলপ্রসূ সমাধানের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে হঠাৎ করে কঠোর অবস্থান নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই চুক্তির মেয়াদ বহাল থাকা পর্যন্ত সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় মূল্যে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নেই এবং এ ধরনের কোনো কার্যকর চুক্তিও নেই। তবে দুটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ‘বিদ্যুৎ না হলে অর্থ পরিশোধ নয়’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। কুইক রেন্টাল না থাকায় বর্তমানে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জও পরিশোধ করতে হচ্ছে না।
ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতির কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লস ছিল ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং বিতরণ লস ছিল ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সঞ্চালন লস বেড়ে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ হলেও বিতরণ লস কমে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করলেও তা এখনো ব্রেক-ইভেন পর্যায়ের ওপরে রয়েছে। ফলে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সংস্থাটির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে এলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর আওতায় সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য গঠিত দুটি কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।