আমানতকারীদের টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে: সংসদে অর্থমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, একীভূত করা পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত অর্থ সুদসহ ফেরত পাবেন। এ ক্ষেত্রে আমানতের অর্থ কেটে নেওয়া বা ‘হেয়ার কাট’-এর কোনো সুযোগ রাখা হবে না।
বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানুর জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (এক্সিম), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। ফলে এসব ব্যাংকের সব আমানতকারীর অর্থ নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে।
তিনি আরও জানান, বিগত সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ৯টি আইনি প্রতিষ্ঠানকে ‘টাকা উদ্ধার হলেই ফি’ ভিত্তিতে নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১১টি মামলার মধ্যে ৬টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়েন্ট গ্রুপ এবং সাইফুর রহমান চৌধুরীর সংশ্লিষ্ট গ্রুপ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু বলেন, প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি গ্রাহকদের আমানতের অর্থ থেকে কোনো ধরনের কর্তন না করার আহ্বান জানান।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানতকারীদের দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে সরকার তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত অর্থ সুদসহ ফেরত পাবেন। তাই আমানতের অর্থ কর্তনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে ব্যাংকগুলো বর্তমানে লোকসানে থাকায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি আরও জানান, আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক নিরীক্ষা চলছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ৫৭ ধারার আওতায় দায়ীদের দেশি-বিদেশি সম্পদ ও তহবিল বিক্রি বা নিলামের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় রেহেনা আক্তার রানু ব্যাংক খাতের অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিশ্বের যেখানেই থাকুক, দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার করতে হবে।