জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব: মির্জা ফখরুল

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সরকারই বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল জুলাই আন্দোলনকে কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দল দাবি করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার না হলে রাজপথেই ফয়সালা হবে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলই একসঙ্গে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকেই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কিছু বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নিয়ে সরকার কখনোই একমত ছিল না। তার অভিযোগ, সংস্কার কমিশন সরকারের সম্মতি ছাড়াই কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছে। সে সময় তিনি এ নিয়ে বিবৃতি দিয়ে এটিকে জাতির সঙ্গে প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছিলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিটি দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করবে। তিনি জানান, সরকার যেমন ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ, তেমনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণকে উসকে দিতে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের মানুষ সচেতন এবং তারাই শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধনের পক্ষে, সংবিধান সংস্কারের নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, ফলে এ বিষয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল একটি মাসের আন্দোলন ছিল না। এটি দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চলা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি।

স্মরণসভায় অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, অধ্যাপক এমাজউদ্দীন ছিলেন উদার গণতন্ত্রের অন্যতম পথপ্রদর্শক। ব্যক্তিগত কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই তিনি সারাজীবন গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব ও প্রেরণা দিয়ে গেছেন। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবুল কাশেম হায়দার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970