রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগির পদত্যাগ করছেন

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। মনোনয়নে বিলম্ব হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সূত্রটির ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা এখন অনেকটাই নিশ্চিত হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রচলিত রীতিতে ক্ষমতাসীন দলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকেই এ পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়ে থাকে।

সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছে শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। এরপর সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্রনেতা ও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সে সময় সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কায় বিএনপিও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পক্ষে অবস্থান নেয়নি বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।

পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে বহাল থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলটির মনোনীত ব্যক্তির নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হবে নতুন আলোচনা।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970