‘মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও এই সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি’
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আগের সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, তার বিশ্বাস, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও বর্তমান সরকারের প্রতি সর্বদা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই হাফিজ উদ্দিন জানান, সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র তার কাছে জমা দিয়েছেন। এর ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, লিখিত আবেদনে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন যে, তিনি গুরুতর হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং হৃদযন্ত্রে বাইপাস অস্ত্রোপচারের পরবর্তী শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগও শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এসব শারীরিক জটিলতা এবং দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কারণেই তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন, স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও তিনি গ্রহণ করেছিলেন। একই বিধান ডেপুটি স্পিকারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকলেও এটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণে হয়েছে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়। তিনি অসুস্থতার বিস্তারিত কারণ নিজেই লিখিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তাই এ বিষয়ে আলাদা কোনো চিকিৎসকের সনদের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তার মতে, এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যমান সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং তিনি চাইলে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য থাকে না। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের রাষ্ট্রপতিকে সাত দিনের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।