বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কোথায় বেশি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১২ এএম
গত শুক্রবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের একদিনের ব্যবধানেই শনিবার রাজধানী ঢাকা ও আশুলিয়ার বাইপাইলে আবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। মাত্রা কম হলেও টানা দুই দিনের ভূমিকম্প জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পটি ছিল শুক্রবার নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘটিত মূল ভূমিকম্পের আফটারশক। তাদের মতে, শক্তিশালী মূল কম্পনের পর এ ধরনের আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক।
ভূতাত্ত্বিকরা মনে করছেন, পরপর কম্পনকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, কারণ এগুলো বৃহত্তর ভূমিকম্পের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও হতে পারে। পৃথিবীর ভূত্বক সাতটি বড় প্লেট এবং বহু ছোট সাব-প্লেট দিয়ে গঠিত—যেগুলো নরম স্তরের ওপর ভাসমান অবস্থায় চলে। এসব প্লেটের নড়াচড়া, সংঘর্ষ ও চাপ সৃষ্টির কারণে ভূগর্ভে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে। বাংলাদেশের অবস্থান তিনটি বড় টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ হুমায়ূন আখতার বলেছেন, ইন্ডিয়ান ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে শতবর্ষ ধরে শক্তি জমা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ থেকে শুরু করে পূর্বদিকে মণিপুর ও মিজোরাম পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে লকড অবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় প্লেট পূর্বদিকে এবং বার্মা প্লেট পশ্চিম দিকে সরতে থাকায় প্লেট দুটি পরস্পরের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই অঞ্চলে ৮ থেকে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার মতো শক্তি সঞ্চিত আছে বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সিলেট, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা অঞ্চল সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা, ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদীর একটি অংশ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বেশ কিছু এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
দেশের মধ্যাঞ্চল—যেমন রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে, আর খুলনা, যশোর, বরিশাল ও পটুয়াখালী অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকটনিক অবস্থানের পাশাপাশি দুর্বল ভবন কাঠামো, অতি জনঘনত্ব এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতি—এই তিন কারণ ঢাকাকে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরে পরিণত করেছে।