ইলেকটিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে বেগম খালেদা জিয়া
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৪৬ এএম
বিএনপি চয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে—এমন তথ্য জানিয়েছে এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক বোর্ড। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর সব চিকিৎসা গাইডলাইন মেনে চলছে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) মেডিক্যাল বোর্ডের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন তালুকদার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, খালেদা জিয়ার ফুসফুসসহ বিভিন্ন অঙ্গকে বিশ্রাম দিতে তাঁকে ইলেকটিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর ডায়ালিসিস চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাসায় অবস্থানকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর ও অতিরিক্ত দুর্বলতা নিয়ে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর কেবিন থেকে তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, তাঁর শরীরে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসজনিত গুরুতর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ জন্য উন্নতমানের অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত ডায়ালিসিস, পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ ও ডিআইসি জটিলতার কারণে রক্ত ও রক্তজাত উপাদান দেওয়া হচ্ছে।
নিয়মিত ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে হৃদযন্ত্রের মহাধমনির ভালভে সমস্যা ধরা পড়লে ‘টিইই’ পরীক্ষা করা হয়, যেখানে সংক্রমণজনিত ভালভ প্রদাহ শনাক্ত হয়। আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী এ জটিলতার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। বোর্ড জানায়, রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা এবং পেশাদারীত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং অনুমানভিত্তিক কোনো তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন।
এদিকে নিজ নির্বাচনি এলাকায় প্রচারে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “আজ আমরা শুনেছি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অবস্থা কিছুটা ভালো।”