দেশে আত্মগোপনে ছিলেন ৮ মাস, পরে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান আব্দুল মোমেন
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮ এএম
গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশেই ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. একে আব্দুল মোমেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। এরপর প্রায় আট মাস দেশের ভেতরেই পালিয়ে ছিলেন তিনি। ধরা পড়ার ভয়ে একাধিকবার বাসা বদল করেছেন, ছয়বার পরিবর্তন করেছেন মোবাইল ফোনের সিম।
এই সময়ের মধ্যে চেহারাতেও আসে বড় পরিবর্তন। নিজেকে আড়াল করতে দাড়ি রাখেন তিনি। এক বছরের বেশি সময় অন্তরালে থাকার পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ড. মোমেন। দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ না থাকলেও সম্প্রতি নিজেই গণমাধ্যমের সামনে এসে আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কীভাবে তিনি দেশ ছাড়লেন, সে বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকারে ড. মোমেন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক দিন আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পরপরই পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয়।
পালিয়ে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটা একটা সিনেমা হতে পারে। সুন্দর মুভি হবে। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমি কোনো অন্যায় করিনি, কাউকে জেলে পাঠাইনি, চুরি-চামারি করিনি। তাই আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু যখন জানানো হলো আমার অবস্থান জানা গেছে, তখন পালাতে বাধ্য হই।”
ড. মোমেন জানান, তিনি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ছিলেন না। কারণ তার আত্মীয়রা সবাই পরিচিত মুখ। বরং সাধারণ মানুষের ভাড়া বাসায় থেকেছেন, যা তাকে আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, একাধিক বাসায় থেকেছেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রেখেছেন।
চেহারা পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনতার ভিড় বা ‘মব’ থেকে বাঁচতেই নিজের চেহারা পুরোপুরি বদলে ফেলেছিলেন। এমনকি নাপিত দিয়ে চুল-দাড়ি কাটানোর ক্ষেত্রেও কৌশল অবলম্বন করেছেন, যেন কেউ তার অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে।
দেশ ছাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সরাসরি কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না। কীভাবে এবং কোন পথে তিনি দেশ ছেড়েছেন, তা এখনই বলতে চান না। তার ভাষায়, “এখনো বলার সময় আসেনি। সরকারি লোকেরাই আমাকে সাহায্য করেছে।”
কথার শেষে ড. মোমেন বলেন, “আমরা সাদাসিধে মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য সবার উদ্যোগ প্রয়োজন।”