নির্বাচন কারচুপির অভিযোগে সৈয়দা রেজওয়ানা ও খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কথিত নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ তুলে দুই সাবেক উপদেষ্টার গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার সকালে দলটির যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পাতায় দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, জুমার নামাজের পর রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের রায়কে প্রভাবিত করার অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর ফটকে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জামায়াতের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কারচুপির মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত রায় পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দ্রুত ওই দুই সাবেক উপদেষ্টাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
ঘোষিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ারের।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামী দলের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসানের এক বক্তব্য থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তারা মনে করেন। তার দাবি, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন কারচুপির বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কী ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিল এবং পুরো সরকার নাকি সরকারের একটি অংশ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলেছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা দরকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খলিলুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিষয়ে জামায়াত অভিযোগ তুলেছিল। তাদের দাবি ছিল, উপদেষ্টারা নিজেদের নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অংশ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং পরে দলীয় সরকারের দায়িত্ব নেবেন না বলে নীতিগত অবস্থান জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় সেই অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের কিছু উপদেষ্টা একটি নির্দিষ্ট দলকে নির্বাচনে জয়ী করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করেছেন। জামায়াত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু সেই সুযোগ জাতিকে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আইনজীবী শিশির মনির ও জাহিদুর রহমান।