বিশ্বকাপের ভিজিট ভিসায় কানাডা গিয়ে আশ্রয় চাইলেন ১০ বাংলাদেশি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ পিএম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভিজিট ভিসায় কানাডায় যাওয়া দর্শনার্থীদের মধ্যে ১৭৫ জন রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক।
কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ প্রকাশিত তথ্যের বরাতে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে মাত্র ৪৫টি ভিজিটর ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ জন কানাডায় পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে ভিসাপ্রাপ্তদের প্রায় ২২ শতাংশই ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে না গিয়ে কানাডায় স্থায়ীভাবে থাকার লক্ষ্যে অ্যাসাইলামের পথ বেছে নিয়েছেন।
প্রকাশিত তথ্য বলছে, গত ২০ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৭৫ জন দর্শনার্থী আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন। অস্থায়ী বসবাসসংক্রান্ত আবেদনে তারা নিজেদের ফিফা বিশ্বকাপের দর্শনার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ঘানা, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, মিসর, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, কেনিয়া, চীন, বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিকরাও এই তালিকায় রয়েছেন।
বিশ্বকাপ চলাকালে জুন ও জুলাই মাসে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করে কানাডা। এ উপলক্ষে বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ২৬ হাজার ১১১টি অস্থায়ী ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৭৫ জন পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ।
আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে ঘানার নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটি থেকে ২৫ জন আবেদন করেছেন। এছাড়া মিসর ও কলম্বিয়া থেকে ১৫ জন করে, সেনেগাল, বাংলাদেশ, চীন ও নাইজেরিয়া থেকে ১০ জন করে এবং ইকুয়েডর, বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তান থেকে পাঁচজন করে আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন।
তবে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে কতজন ফুটবল খেলোয়াড়, কর্মকর্তা বা দলের সহায়ক কর্মী ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
এর আগে কানাডার অভিবাসন বিভাগ সতর্ক করেছিল, ফিফা টিকিটধারীদের মধ্যে কেউ নিজ দেশে ফিরে না যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকলে তাদের সীমান্তেই আটকে দেওয়া হতে পারে। তবুও বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশটিতে যাওয়া ১৭৫ জনের অ্যাসাইলাম আবেদন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কানাডার স্থানীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আবেদনের সময়সীমা এখনো শেষ হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।