ওমরাহ পালনে যাওয়ার পথে সৌদিতে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
সন্তানের উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রার আগে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে পরিবার নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন সৌদি আরবপ্রবাসী সফিকুল ইসলাম খোকন। কিন্তু রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ভেঙে যায় সেই স্বপ্ন। দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় সফিকুল ইসলাম খোকন ও তার বড় ছেলে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)।
শুক্রবার নিহতদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
সফিকুল ইসলাম খোকনের চাচা করম আলী জানান, বড় ছেলে নাবিল ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পুরো পরিবারকে নিয়ে ওমরাহ পালনে যাচ্ছিলেন খোকন। কিন্তু পথে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তান প্রাণ হারান। তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর আগে অসুস্থতার কারণে খোকন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দেশে এসে গ্রামের বাড়িতে কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন।
খোকনের চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকায় থাকা এক আত্মীয় ফোন করে দুর্ঘটনার খবর জানান। তিনি জানান, তার ভাবি ও দুই ভাতিজা-ভাতিজি নিহত হয়েছেন এবং খোকন ও তার বড় ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৮ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান সফিকুল ইসলাম খোকন। পরে দেশে এসে বিয়ে করে কয়েক বছরের মধ্যে স্ত্রী-সন্তানদেরও সৌদি আরবে নিয়ে যান। দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই কাটছিল তাদের প্রবাসজীবন। সম্প্রতি বড় ছেলে নাবিল ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। সেখানে যাওয়ার আগে পরিবারসহ পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে গত ২৩ জুলাই ভোরে রিয়াদের বাসা থেকে নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে মক্কার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু পথেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
এদিকে নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার বড় ভাই আবু সালেহ মো. খুশবো জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সৌদি আরবেই নিহত তিনজনের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।