সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইমনের মরদেহ উদ্ধার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণের একটি ভুয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন।
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন ওরোক্লিনি এলাকা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
জানা গেছে, ইমন পরিচিতদের জানিয়েছিলেন যে তিনি কোফিনু অঞ্চলের একটি কারখানায় প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে যাচ্ছেন। নিখোঁজ হওয়ার রাতে তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুর কাছে নিজের অবস্থানের একটি লোকেশন পাঠান। এরপর থেকেই তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং নিহতের ব্যক্তিগত সামগ্রী কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, একটি বাসযাত্রার সময় ইমন ও অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল। অভিযুক্ত দাবি করেছেন, ওই সময় ইমনের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছিলেন। তবে পুলিশ মনে করছে, ব্যক্তিগত ক্ষোভের পাশাপাশি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যও হত্যার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন আগে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরোক্লিনি থেকে গাড়িতে করে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মুক্তিপণ দাবি করেন। এর মাধ্যমে অপহরণের ঘটনা সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমন হত্যার শিকার হন। বর্তমানে মরদেহ উদ্ধারের স্থান ঘিরে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের সব তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।