ভারতের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সিন্ধু নদ পানি চুক্তি স্থগিতকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

শনিবার পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে ইসলামাবাদ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “যখনই আমরা মনে করব আমাদের পানি ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন আমরা যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারি।”

খাজা আসিফের দাবি, ভারত যদি পাকিস্তানের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে কোনো দৃশ্যমান ও প্রমাণযোগ্য পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পাকিস্তান সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনবে।

সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার জেরে ভারত ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

নয়াদিল্লি জানিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত সিন্ধু নদ জলচুক্তি দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আওতায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সিন্ধু অববাহিকার বড় অংশের পানি ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে আসছে।

এদিকে খাজা আসিফ অভিযোগ করেন, ভারত পানি প্রবাহকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং চেনাব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে প্রভাব ফেলছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক জলসম্পদ প্রকল্পগুলো সম্পর্কে পাকিস্তানের কাছে পর্যাপ্ত ও হালনাগাদ তথ্য নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও পানি সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে তীব্র পানির ঘাটতির কারণে কৃষি উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন খাল ও সেচ ব্যবস্থায় ৩৮ থেকে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া সুক্কুর ব্যারাজসহ গুরুত্বপূর্ণ পানি অবকাঠামোগুলোতে পানির স্তর কমে যাওয়ায় কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: এনডিটিভি

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970