অসহায়দের সাহায্যের নামে চাঁদাবাজি করা কি বৈধ? ইসলামে যা বলা হয়েছে
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ পিএম
প্রশ্ন উঠেছে, নিজের এলাকায় অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য কোনো রাজনীতিক যদি বিত্তবানদের কাছ থেকে জোর করে বা চাপ দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন, তবে তা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি না।
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, অসহায় মানুষের সহযোগিতা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং এটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) নবীজির বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলেন, إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ
অর্থ: আপনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন, অসহায় লোকদের ভার বহন করেন, নিঃস্ব লোকদের উপার্জন করে দেন, অতিথিদের আপ্যায়ন করেন এবং বিপদাপদে পতিত মানুষকে সাহায্য করেন। (সহিহ বুখারি, ০৩)
সুতরাং অসহায় লোকদের সহযোহিতা করা খুব ভালো কাজ। তবে তাদেরকে সাহায্য করার পন্থা অবশ্যই শরিয়ত-সমর্থিত হতে হবে। আর চাঁদাবাজি শরিয়ত-সমর্থিত কোনো পন্থা নয়। কেননা এতে মানুষ সাধারণত আন্তরিক সন্তোষের সঙ্গে টাকাপয়সা দেয় না; বরং চাপের শিকার হয়ে কিংবা চক্ষুলজ্জার কারণে দিয়ে থাকে।
এভাবে কারও থেকে টাকাপয়সা নেওয়া জায়েজ নয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ
অর্থ: কারও সম্পদ তার আন্তরিক সন্তোষ ছাড়া হালাল নয়। (মুসনাদে আহমাদ, ২০৬৯৫)
অতএব, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অসহায় মানুষকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যেও চাঁদাবাজি করা জায়েজ হবে না। তবে আপনি চাইলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানুষের প্রতি উন্মুক্ত আহবান করতে পারেন।
অতঃপর কেউ যদি চাপ বা লজ্জা অনুভব করা ছাড়া স্বেচ্ছায় টাকাপয়সা দেয়, তবে সে টাকাপয়সা দ্বারা আপনি অসহায় মানুষের সহযোগিতা করতে পারবেন।
সূত্র: সুনানুদ দারাকুতনি, ২৮৮৪; ইহইয়াউল উলুম, ৪/৩৬৮; শারহু মুখতাসারিত ত্বহাবি, ৫/৩৯১