লক্ষ্মীপুরে জামায়াত–বিএনপির সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলায় আসামি ৩৮৭
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এতে জামায়াতের করা মামলায় ১৭০ জন এবং বিএনপির করা মামলায় ২১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই মামলায় আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৭ জনে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা হেজবুল্লাহ সোহেল এবং বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানায়, হামলার অভিযোগ এনে জামায়াতের যুববিভাগের চরশাহী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। অপরদিকে একই ঘটনায় বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি বিষয়ে এক অবহিতকরণ সভা করেন। সভায় চরশাহীর সংঘর্ষের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এ সময় জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক উভয় পক্ষকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, মহিলা সভার আড়ালে জামায়াতের কর্মীরা ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এতে বাধা দিলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, তাদের মহিলা কর্মীদের কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। বিষয়টি মীমাংসা হলেও পরে জামায়াতের পুরুষ নেতাকর্মীদের ওপর আবারও হামলা করা হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ভোটারদের কাছ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে উভয় পক্ষের মধ্যেই অপরাধপ্রবণতা দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আহত বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান এ্যানি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, চরশাহীর ঘটনায় জামায়াত ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।