গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রচারণা, ভাইরাল ভিডিও
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রচারণা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজারহাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক মুকুল দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচারণাকালে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘না ভোট দেবেন। হ্যাঁ ভোট দিলে মুন্সিরা জয়যুক্ত হবে।’ তার এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এমদাদুল হক মুকুল উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ছিনাই ইউনিয়নে হিন্দুধর্মাবলম্বী ভোটারদের মাঝে প্রচারণা চালান বিএনপি নেতা মুকুল ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা নিজ দলের প্রতীক ‘ধানের শীষ’ এবং গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।
ভাইরাল ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এমদাদুল হক মুকুল নারী ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আরেকটা ব্যালট দিবে হ্যাঁ আর না মার্কা। সেখানে না ভোট দিবেন। হ্যাঁতে দিলে মুন্সিরঘরে জয়যুক্ত হইবে।’ তার পাশে থাকা যুবদল নেতা রোকনও ‘না’ ভোট ও ‘ধানের শীষ’-এর পক্ষে কথা বলেন।
ভিডিও ধারণকারী এক অজ্ঞাত পরিচয় বিএনপি কর্মী এ সময় বলেন, ‘না ভোট হইলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।’ পরে মুকুল আরও দাবি করেন, ‘হ্যাঁ ভোট দিলে মুন্সিরঘর একাত্তর শেষ করে দেবে।’
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এমদাদুল হক মুকুল বলেন, ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে ভুলবশত ‘না’ ভোটের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক পর্যায়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ ফসকে এটা বলা হয়ে গেছে। এজন্য আমি দুঃখিত।’
সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রয়েছে এবং তারাও সেই অবস্থানেই আছেন। তার ভাষ্য, ভিডিওতে থাকা কথাগুলো তার সঙ্গে থাকা লোকজনের ভুল বক্তব্য।
এদিকে রাজারহাট উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতাদের এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ বা না—যেটার পক্ষেই থাকুক, সেটা জনগণকে স্পষ্টভাবে বোঝাতে হবে। বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।’