ভূঞাপুরে টাকা বিতরণ করা ব্যক্তিটি জামায়াত নয়, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি শামীম
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ডিবিসি নিউজসহ কয়েকটি গণমাধ্যম ভিডিওটি প্রকাশ করে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ তুলে ধরলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিরা মূলত বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
১৯ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি এক হাজার ও পাঁচশো টাকার নোট প্রদর্শন করছেন। এক পর্যায়ে হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা এক যুবক এক বৃদ্ধ ব্যক্তির হাতে পাঁচশো টাকার নোট গুঁজে দেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই যুবকের নাম শামীম, তিনি অর্জুনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি। আর যার হাতে টাকা দেওয়া হয়েছে তার নাম নুরুল ইসলাম, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা হলেও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন।
ভিডিওতে সাদা শার্ট পরিহিত যিনি এক হাজার টাকার নোট দেখাচ্ছেন তার নাম বৈ খাঁ, তিনি স্থানীয় বিএনপি কর্মী। একইভাবে হলুদ শার্ট ও কালো জ্যাকেট পরিহিত ব্যক্তি ইসমাইলও বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ভিডিওতে উপস্থিত লাল দাড়িওয়ালা ক্যাপ পরিহিত লাবু খাঁ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হলেও তাকে কাউকে টাকা দিতে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, ভিডিওর শুরুতে পাঞ্জাবি পরিহিত লাল দাড়িওয়ালা যে ব্যক্তিকে সামনে এগোতে দেখা যায় তিনি জামায়াতের ইউনিয়ন সভাপতি কাজী নুরুল ইসলাম। তবে তাকে টাকা বিতরণ করতে দেখা যায়নি।
স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার (সকাল ১০টা) অর্জুনা ইউনিয়নের জগতপুরা গ্রামে জামায়াত নেতারা গণসংযোগে গেলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভ্রান্তিকরভাবে টাকা বিতরণের অভিযোগ তোলা হয়।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাব্বির রহমান বলেন, জামায়াত নেতারা সেখানে প্রচারণায় গেলে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকরা বাধা দেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে টাকা বিতরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং বিএনপি সমর্থকরাই টাকা বের করে ভিডিও ধারণ করেছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান জানান, ঘটনার পর সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। জুডিশিয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।