জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পদ্ধতিতে জেট ফুয়েল তৈরি করছে চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
বিশ্বজুড়ে বিমান জ্বালানির চরম মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসকে জেট ফুয়েলে রূপান্তরের নতুন প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।
চীনের সাংহাই অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা জানিয়েছেন, তারা কার্বন ডাই-অক্সাইডকে সরাসরি জেট ফুয়েলের প্রধান উপাদান লম্বা শৃঙ্খলযুক্ত হাইড্রোকার্বনে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য গ্যাসকে পানির সঙ্গে মিশিয়ে উচ্চ শক্তির তরল জ্বালানি তৈরি করা হচ্ছে, যা দহন প্রক্রিয়ার বিপরীত একটি পদ্ধতি।
চীনা একাডেমি অব সায়েন্সের এই গবেষণা দলটি এখন ল্যাবরেটরির বাইরে গিয়ে বড় পরিসরে উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হলো এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে নিয়ে যাওয়া।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জেট ফুয়েলের বাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই নতুন প্রযুক্তি বিমান শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির জার্নাল এসিএস ক্যাটালাইসিস-এ। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের কার্বন চেইন নিয়ন্ত্রণের জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন চীনা গবেষকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে কার্বন নিঃসরণকে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হওয়ায় এটি পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হবে।
যদি এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছায়, তাহলে বিমান জ্বালানির খরচ কমার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনের এই সাফল্য ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকেও বিকল্প জ্বালানি গবেষণায় উৎসাহিত করবে। এখন গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার বৈশ্বিক লক্ষ্য পূরণে এই ধরনের প্রযুক্তিকে সময়োপযোগী উদ্ভাবন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি