মার্কিন পাসপোর্টে এবার নিজের ছবি বসাচ্ছেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর একটি ব্যতিক্রমধর্মী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি গ্রীষ্মকাল থেকে বাজারে আসছে সীমিত সংস্করণের বিশেষ পাসপোর্ট, যার ভেতরের প্রচ্ছদে বড় আকারে থাকবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি।
রাজতন্ত্র থেকে মুক্তির ২৫০ বছর পূর্তিতে এমন উদ্যোগ দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে রাষ্ট্রীয় নথিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই কার্যক্রম চালু হলে পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী যেকোনো মার্কিন নাগরিক নতুন নকশার এই পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে এটি শুরুতে শুধু ওয়াশিংটনের নির্দিষ্ট পাসপোর্ট কার্যালয়ে পাওয়া যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, বিশেষ এই পাসপোর্টে আধুনিক চিত্রায়ন প্রযুক্তি ও বিশেষ নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। পাসপোর্টের ভেতরের অংশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় ছবি থাকবে, যার চারপাশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশ, জাতীয় পতাকা এবং সোনালি রঙে তার স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হবে।
এই উদ্যোগটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ২৫০’ কর্মসূচির অংশ। এ কর্মসূচির আওতায় আরও রয়েছে রাজধানীর ন্যাশনাল মলে বড় ধরনের গাড়ি প্রতিযোগিতা এবং হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে ক্রীড়া আয়োজনের পরিকল্পনা।
সমালোচকদের অভিযোগ, এটি রাষ্ট্রীয় নথিতে ব্যক্তিপূজার নতুন দৃষ্টান্ত। এর আগেও বিভিন্ন সরকারি ভবন ও দপ্তরে ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কিছু স্থানে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ছবির পাশেও তার ছবি যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় উদ্যান পাসেও ঐতিহাসিক নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করার বিষয়টি বিতর্ক তৈরি করেছে। কিছু দর্শনার্থী প্রতিবাদ হিসেবে স্টিকার ব্যবহার করে সেই ছবি ঢেকে দিলে কর্তৃপক্ষ পাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করে।
এর পাশাপাশি নতুন মুদ্রার নকশায় ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। সবচেয়ে আলোচিত পরিকল্পনা হলো রাজধানী ওয়াশিংটনে প্রায় ২৫০ ফুট উচ্চতার একটি স্বর্ণালী বিজয় তোরণ নির্মাণ, যা ‘আর্ক দ্য ট্রাম্প’ নামে পরিচিত হতে পারে।
যদিও এই প্রকল্পে জনসমর্থন সীমিত, তবুও ট্রাম্প-সমর্থিত একটি প্যানেল এটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। সমালোচকরা এসব পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
তবে প্রশাসনের দাবি, দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।