স্কুলছাত্র হত্যা: ছাত্রদল কর্মীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে (১০) অপহরণ ও হত্যার দায়ে ফেনী পৌর ছাত্রদলের এক কর্মীসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে আটক তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আশরাফ হোসেন তুষার (২২), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২২) ও ওমর ফারুক রিফাত (২২)। আশরাফ হোসেন তুষার ফেনী পৌর ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এছাড়া তিনি আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সহপ্রচার সম্পাদক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জিয়া স্মৃতি সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং শেষে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায় নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা নাশিতকে অপহরণ করে শহরতলির দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করা হয়।

পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ ভেসে উঠা ঠেকাতে স্কুল ব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ৯ ডিসেম্বর নাশিতের বাবা ফেনী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরবর্তী সময়ে মুক্তিপণের দাবিতে ফোন আসলে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তুষারকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যমতে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের মরদেহ ও স্কুল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

পরে পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২৫ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হলে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ বলেন, আমার শিশুসন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। দ্রুত এই রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. শাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর দ্রুততম সময়ে এ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই রায় দেওয়া হয়েছে, যা আইনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970