ধর্ষণের শিকার ৭ বছরের শিশুটিকে বাঁচাতে কেটে ফেলা হয়েছে জরায়ু
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
নেত্রকোনায় ধর্ষণের শিকার সাত বছরের এক শিশুকে বাঁচাতে তার জরায়ু অপসারণ করতে হয়েছে চিকিৎসকদের। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফারহানা (ছদ্মনাম) নামের শিশুটি প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এত অল্প বয়সে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনাটি সে পুরোপুরি বুঝে উঠতে না পারলেও নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি অনুভব করেছিল। ভয়ের কারণে প্রথমে পরিবারের কাউকে কিছু জানায়নি সে।
ঘটনার কিছুদিন পর শিশুটি তীব্র পেটব্যথায় ভুগতে শুরু করে। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাকে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়। সাময়িকভাবে ব্যথা কমলেও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন, নির্যাতনের কারণে তার জরায়ুতে গুরুতর সংক্রমণ হয়েছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় গত ৪ মার্চ জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। শিশুটিকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তার জরায়ু অপসারণ করা হয়। এ ঘটনায় ১২ মার্চ একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জরায়ু অপসারণের ফলে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
মেয়ের এমন অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা। শিশুটির বাবা সরিকুল ইসলাম বলেন, তার মেয়ে আর কোনোদিন মা হতে পারবে না। তিনি জানান, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আপসের জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি ন্যায়বিচার চান।
পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরিবারটিকে আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
এদিকে মামলা দায়ের হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।