বহিষ্কারের পর ছাত্রদল নেতার দাবি, ‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই, সম্পূর্ণ পুরুষ’
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতাকে ব্যক্তিগত ও লিঙ্গ সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়া রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন, বরং তার পরিচয় সম্পূর্ণ পুরুষ।
জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যক্তিগত তথ্য গোপন এবং সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে রেদোয়ান ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন জেলা আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান এবং সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী।
রোববার রাতে ‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে রেদোয়ান ইসলাম একটি পোস্ট দিয়ে নিজেকে একজন সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভুল ধারণা একজন মানুষের সম্মানহানি ঘটাতে পারে।
এ বিষয়ে রেদোয়ানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুরো ঘটনাটি গুজবনির্ভর। তার ছেলে কিছু ভিডিও তৈরি করেছিল, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি এসব বিষয়ে সে দুঃখ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি। ছেলে থেকে মেয়েতে রূপান্তরের যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার কলেজ শাখা ছাত্রদলের একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, যা পরে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ নেয়। তবে সদস্য তালিকা প্রকাশের পর রেদোয়ান ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক শুরু হয়।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগে সংশ্লিষ্টদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেখানে রেদোয়ান নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু পরে তার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠায় তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।