অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে দুটি বাঁধ ভেঙে ফসলহানি, হাওরে আতঙ্ক
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ এএম
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার হাওরাঞ্চলে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পানির চাপ ও প্রবল স্রোতের কারণে দুই উপজেলায় দুটি ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়েছে। এতে কৃষকের চোখের সামনে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে।
টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকেরা। বৈরী আবহাওয়া, বজ্রপাতের আতঙ্ক, শ্রমিক সংকট এবং দ্রুত পানি বৃদ্ধির কারণে ধান কাটার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জমির কাটা ধানও শুকানোর আগেই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোট ১১৪ হেক্টর জমি রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে পানি ঠেকাতে স্থানীয়রা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আগামী দুই দিন অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টি হলে আরও পাহাড়ি ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে। এতে হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষকেরা মাঠে কাজ করছেন এবং ধান তুলতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরপাড়ের কৃষক সারদা চরণ দাস জানান, সোমবার জমিতে পাকা ধান রেখে গেলেও রাতের বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে। ১৬ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র চার বিঘার ধান তুলতে পেরেছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, টানা বৃষ্টিতে আগে থেকেই অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা ছিল। এখন নতুন করে ভারী বৃষ্টিতে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিক সংকট ও বজ্রপাতের আতঙ্কে কৃষকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামলেও কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্জের হাওর ও নদীতে পানি আরও বাড়ছে। এতে ফসল রক্ষা বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় আরও বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে বাঁধ পাহারার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।